*/
OrdinaryITPostAd

সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়, সিজার পরবর্তী যত্ন

সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়, সিজার অপারেশনের পর মায়ের শরীর দুর্বল থাকে এবং পেটের পেশিগুলো ঢিলা হয়ে যায়। এ সময় বেল্ট অনেক মাকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে। কিন্তু অনেকেই বেল্ট ব্যবহার না করলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে তা জানেন না। 

সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়,বেল্ট না পরলে পেট ঝুলে যাওয়া, কোমর–পিঠ ব্যথা এবং চলাফেরায় অসুবিধার মতো ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন কি না সেটা জানা প্রতিটি নতুন মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সিজারের পর বেল্ট কেন ব্যবহার করা হয়

সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেট ও কোমরের পেশি ঢিলা হয়ে যায়। এই পেশিগুলোকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই মূলত বেল্ট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বেল্ট ব্যথা কমানো, পেট আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়।

আরো পড়ুনঃ সিজারের পর সেলাই শুকানোর উপায়

সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়

বেল্ট না পরলে বা দেরিতে পরলে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। যেমন,

১. পেট ঝুলে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সিজারের পর পেটের পেশি ঢিলা থাকে। বেল্ট না পরলে পেট ভেতরের দিক থেকে সাপোর্ট পায় না এবং ধীরে ধীরে পেট সামনের দিকে ঝুলে পড়ে।

২. কোমর ব্যথা ও পিঠ ব্যথা বাড়তে পারে অপারেশনের পরে মায়ের শরীর দুর্বল থাকে। বেল্ট না পরলে কোমর ও পিঠের ওপর চাপ বেশি পড়ে, ফলে ব্যথা বাড়ে।

৩. হেঁটে চলাফেরা করতে কষ্ট হয় বেল্ট শরীরে একটি স্থিতিশীলতা দেয়। না পরলে উঠে-বসা বা হাঁটার সময় ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৪. সেলাইয়ের জায়গায় টান ধরা বা ব্যথা বাড়তে পারে বেল্ট সেলাইয়ের জায়গাটি সাপোর্ট দেয়, যাতে নড়াচড়ায় কম টান পড়ে। বেল্ট না থাকলে হঠাৎ নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়তে পারে।

৫. পেটের চর্বি দ্রুত কমে না বেল্ট ব্যবহার করলে পেটের চর্বি ও ঢিলা অংশ সংকুচিত হতে সাহায্য করে। তাই বেল্ট ছাড়া পেট আগের আকারে ফিরে আসতে বেশি সময় লাগে।

৬. শরীরের ভঙ্গি (Posture) খারাপ হতে পারে অপারেশনের পর অনেক সময় মা সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটেন। বেল্ট শরীর সোজা রাখতে সাহায্য করে। না পরলে ভঙ্গি খারাপ হয়ে যেতে পারে।

৭. আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে পেট ঝুলে থাকা বা চলাফেরায় কষ্ট হওয়ায় অনেক মায়ের মন খারাপতা দেখা দেয়। বেল্ট ব্যবহার করলে শরীর টাইট থাকে, ফলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়।

সিজারের পর কখন বেল্ট পরা উচিত?

সাধারণত অপারেশনের ৭–১০ দিন পর, সেলাই শুকিয়ে গেলে বেল্ট ব্যবহার করা নিরাপদ। সিজারের ধরন, সেলাই, এবং অবস্থার ওপর নির্ভর করে ডাক্তার আলাদা পরামর্শ দিতে পারেন। তাই বেল্ট পরার আগে নিজের ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা জরুরি। সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়।

সিজারের বেল্ট কীভাবে পরবেন?

  • দিনে ৬–৮ ঘণ্টা পরা যেতে পারে
  • খুব বেশি আঁটসাঁট করে পরবেন না
  • খাওয়ার পরপরই বেল্ট পরা ঠিক নয়
  • ঘুমের সময় বেল্ট খুলে রাখুন
  • দীর্ঘ সময় একটানা পরবেন না
  • সুতি পোশাকের ওপর পরলে আরাম বেশি পাওয়া যায়

সিজারের পর বেল্ট ব্যবহারের উপকারিতা

  • ব্যথা কমায়
  • শরীরকে সাপোর্ট দেয়
  • পেটকে আগের আকারে ফিরতে সাহায্য করে
  • সেলাইয়ের জায়গা রক্ষা করে
  • চলাফেরা সহজ করে
  • কোমর ও পিঠের ব্যথা কমায়

সতর্কতা

অপারেশনের ক্ষত যদি ফুলে থাকে বা পুঁজ বের হয়, তখন বেল্ট পরা উচিত নয় যাদের শ্বাসকষ্ট বা সিজারের পরে জটিলতা আছে, তারা বেল্ট না পরাই ভালো বেশি টাইট করলে ক্ষতস্থানে চাপ পড়ে সমস্যা হতে পারে, সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

১. সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি খুব বেশি সমস্যা হয়?

সব মায়ের ক্ষেত্রে নয়, তবে পেট ঝুলে যাওয়া, পিঠ ব্যথা, পেশি ঢিলা থাকার ঝুঁকি বাড়ে।

২. বেল্ট কি সব সময় পরতে হবে?

না, প্রয়োজন অনুযায়ী দিনকে ৬–৮ ঘণ্টা পরলেই হবে।

৩. কতদিন পর্যন্ত বেল্ট ব্যবহার করা যায়?

সাধারণত ১–৩ মাস পর্যন্ত ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

উপসংহার

সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়, সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক না হলেও এটি মায়ের শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। বেল্ট না পরলে পেট ঝুলে যাওয়া, কোমর পিঠে ব্যথা হওয়া এবং চলাফেরায় সমস্যার মতো কিছু অসুবিধা দেখা দিতে পারে। তাই, ডাক্তার অনুমতি দিলে সিজারের পর বেল্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো ও উপকারী। সিজারের পর বেল্ট না পরলে কি হয়,

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রোকন আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Md. Shakhawat Hosen
Md. Shakhawat Hosen
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।